টানা তিন মাস নির্ধারিত মিল না নিলে বাতিল হতে পারে আবাসিক সিট

যবিপ্রবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৫৮ পিএম


টানা তিন মাস নির্ধারিত মিল না নিলে বাতিল হতে পারে আবাসিক সিট
যবিপ্রবি’র তাপসী রাবেয়া ছাত্রী হল। ছবি: সৌজন্য

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) তাপসী রাবেয়া ছাত্রী হলের ডাইনিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ডাইনিংয়ের খাবারের মান, স্বাদ ও পরিবেশনের সেবার মান প্রত্যাশার তুলনায় নিম্নমানের। অনেক সময় পরিবেশনকারীদের আচরণ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। এ কারণে ৪০ টাকা মিল রেট নির্ধারিত থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত মিল টোকেন সংগ্রহে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তবে এ অবস্থার মধ্যেই চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে প্রতি মাসে ন্যূনতম ২৫টি মিল টোকেন, অর্থাৎ ১,০০০ টাকার সমপরিমাণ টোকেন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে হল প্রশাসন।

রোববার (২৬ জুলাই) হল প্রভোস্টের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জুলাই মাস থেকে কোনো আবাসিক ছাত্রী টানা দুই মাস ডাইনিংয়ের নির্ধারিত মিলের টাকা জমা না দিলে তাকে জরিমানা করা হবে। আর টানা তিন মাস মিলের টাকা জমা না দিলে তার আবাসিক সিট বাতিল করা হবে। জুলাই মাস থেকেই এই হিসাব কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হলের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ডাইনিংয়ের খাবারের মান ও সেবার উন্নয়ন নিশ্চিত না করে কেবল মিলের মূল্য বৃদ্ধি এবং শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায্য নয়।

আরও পড়ুন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, পড়াশোনা ও পরীক্ষার চাপ সামলাতে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খুবই প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের হলের খাবারের স্বাদ ও মান সন্তোষজনক নয়। অনেক সময় আলু আধাসেদ্ধ থাকে, মুরগির টুকরা খুবই ছোট দেওয়া হয়। এমনকি অনেক দিন খাবার মুখে তোলাও কঠিন হয়ে পড়ে। যারা খাবার পরিবেশন করেন, তাদের আচরণও ভালো নয়। আগামী মাস থেকে মিলের মূল্য বাড়ানো হচ্ছে, কিন্তু খাবারের মান উন্নয়নের কোনো নিশ্চয়তা নেই। খাবারের মান ভালো হলে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই টোকেন নিত।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, সময়সূচি অনুযায়ী খাবার পরিবেশন করা হয় না। পরীক্ষার সময় নির্ধারিত সময়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় খাবার প্রস্তুত থাকলেও পরিবেশন করা হয় না, আবার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরাও দেরিতে আসেন। ভাত শক্ত থাকে, আলু ঠিকমতো সিদ্ধ হয় না। এমনকি কখনও কখনও মেঝেতে খাবার রেখে প্রস্তুত করা হয়। এসব খাবার খেয়ে আমি অসুস্থও হয়েছিলাম। খাবারের মান ভালো হলে বাড়তি টাকা দিয়ে খেতে আপত্তি নেই। কিন্তু প্রতিদিন একই ধরনের স্বাদহীন ও নিম্নমানের খাবার বাধ্যতামূলকভাবে নেওয়া সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে তাপসী রাবেয়া হলের প্রভোস্ট ড. নাজনীন নাহার বলেন, হলে বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা থাকেন। সবার খাবারের স্বাদ ও পছন্দ এক রকম হবে না, সেটি স্বাভাবিক। তারপরও আমি নিয়মিত রাঁধুনি ও ডাইনিং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের তদারকি করি, যাতে খাবারের মান ভালো থাকে এবং শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট হন।

তিনি আরও বলেন, ডাইনিং পরিচালনার অন্যতম বড় সমস্যা হলো অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত টোকেন কাটেন না। এতে পরিচালনায় আর্থিক চাপ তৈরি হয়। অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী টোকেন কাটার কারণে মিল রেট তুলনামূলক বেশি রাখতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

খাবার পরিবেশনকারী কর্মীদের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission